চৈতন্য ভূমি নবদ্বীপ থেকে অযোধ্যায় আমন্ত্রিত পাঁচ জন সাধু-সন্ত, শহরের হেরিটেজ স্বীকৃত রাম মন্দির ঘিরেও সাজো সাজো রব


গোপাল বিশ্বাস, নদীয়া – লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশ জুড়ে যার দিকে নজর রয়েছে তা হলো আগামী ২২শে জানুয়ারী অযোধ্যায় রাম মন্দিরের দিকে। যাকে ঘিরে দেশের সকল শহর থেকে গ্রামে একপ্রকার সাজো সাজো রব। আর পশ্চিম বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন জনপদ নদীয়ার নবদ্বীপ ধাম, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান হিসেবে যা গোটা বিশ্বেই সমাদৃত। চৈতন্য নগরী নবদ্বীপ হলেও এই শহরে একাধারে যেমন বৈষ্ণব মতে সকল দেব দেবীর আরাধনা শ্রদ্ধা,ভক্তির সাথে মহাসমারোহে পালিত হয়, তেমনি শৈব্য, ও শাক্ত মতের দেব দেবীরও আরাধনা মহাসমারোহেই হয়ে থাকে। আর এসবের পাশাপাশি এই নবদ্বীপ শহরের প্রায় মধ্যভাগে পোড়ামাতলার পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে একটি রাম সীতা মন্দির। যার ফলে এই এলাকার নামকরণও করা হয়েছেিলো রাম সীতা পাড়া। বর্তমানে রাজ্য সরকারের হেরিটেজ কমিশনের দ্বারা,২০২০ সালেই হেরিটেজ মন্দির হিসেবেও স্বীকৃত লাভ করেছে এই মন্দির। মন্দিরে বর্তমান সেবাইত প্রদীপ মহা পাত্র জানান, এই শহরের মতোই এই মন্দিরটিও অতি প্রাচীন ও ইতিহাসে মোড়া, তিনি জানান বংশ পরম্পরায় কয়েক প্রজন্ম ধরেই তারা এই মন্দিরের সেবা কার্যে নিযুক্ত আছেন, মন্দিরটির বয়স আনুমানিক তিনশত বছর। তিনি জানান তাদের পূর্ব পুরুষদের থেকে তিনি শুনেছেন, তৎকালীন সময়ে এই জায়গা দিয়েই বয়ে চলতো গঙ্গা, আর সে সময় এক সাধু স্বপ্নাদেশ পান ও সেই মোতাবেক গঙ্গা থেকেই দারুকাঠের এই মূর্তী পান, সেই থেকেই এই স্থানে এই রাম, সীতা,লক্ষন আর হনুমানজীর পুজো হয়ে আসছে। তৎকালীন সময়ে মূর্তীটিকে পরবর্তী সময়ে অঙ্গরাগের মাধ্যমে দৃষ্টি নন্দন করা হয়েছে, ও মন্দিরটিরি সংস্করণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান বর্তমানে ভক্তরা যে দেন তা দিয়েই চলে দেবতাদের নিত্য পুজো থেকে মন্দিরের যাবতীয় খরচ। রোজ তিন বেলা করে এই মন্দিরে পুজিত হন প্রভু রামচন্দ্র, মাতা সীতা, প্রভু লক্ষন ও হনুমানজির, দুপুরের পঞ্চব্যঞ্জন সহকারে হয় নিত্য ভোগ।

এ ছাড়াও রাম নবমী, সীতা নবমী জন্মাষ্টমী তিথি গুলোকে মহাসমারোহে পালিত করা হয়, সেখানে ভক্ত সমাগমও ঘটে প্রচুর। আগামী ২২শে জানুয়ারি অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন থেকেই মন্দিরে ভক্ত সমাগমও রোজ একটু একটু করেও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও জানান তিনি। আর এই নবদ্বীপ ধামের শহর প্রখন্ড ও গ্রামীণ প্রখন্ড মিলিয়ে মোট পাঁচ জন সাধু-সন্ত আমন্ত্রণ পেয়েছেন আগামী ২২শে জানুয়ারীর অযোধ্যার অনুষ্ঠানে। জানা যায় নবদ্বীপ শহর থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন শ্রতিশেখর গোস্বামী, ভাগবত কিশোর গোস্বামী, নিত্যযুক্তা নন্দ অবধূত,পার্থ গোস্বামী, ও গ্রামীণ খন্ড মায়াপুর থেকে জগদ্ধাত্রীয়া প্রভু । আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে শ্রতিশেখর গোস্বামী জানান আগামী ২২শে জানুয়ারি অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হতে চলছে, প্রায়,পাঁচশত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে। আর এই মহতি অনুষ্ঠানে রাম জন্মভূমি তীর্থ যাত্রা ট্রাষ্ট মধ্যবঙ্গ থেকে মোট ৮১ জন সাধু-সন্তদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর নবদ্বীপ ধাম যেমন একাধারে চৈতন্য মহাপ্রভূর জন্মস্থান ও স্মৃতি বিজারিত বৈষ্ণব তীর্থ পাশাপাশি শহরের রাম-সীতা পাড়ায় রয়েছে রয়েছে বহু প্রাচীন রাম মন্দির, আর এই জনপদ থেকে এই ২২শে জানুয়ারীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে আমরা গর্বীত, আনন্দিত। এক ঐতিহাসিক মূহুর্তের সাক্ষী হতে চলছে গোটা দেশ তথা বিশ্ব, পাশাপাশি তিনি শহর বাসীর কাছে আবেদনও করেন ২২শে জানুয়ারি যেমন নিজ নিজ গৃহে, মন্দিরে প্রদীপ জ্বালাবেন, তেমনি শহরের ঐ ঐতিহ্য বাহী প্রাচীন রাম মন্দিরেও গিয়ে পুজো দিতে। আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে নিত্যযুক্তা নন্দ অবধূত,জানান, এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়া ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়,এ যেন সাক্ষাত দেবতার দর্শনের সমতুল্য, এই আবেগ, কোন ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। চৈতন্য নগরী নবদ্বীপ শহরের থেকে অযোধ্যায় একাধিক সাধু-সন্ত আমন্ত্রণ পাওয়া প্রসঙ্গে শহরের রানীরচড়া নিবাসী গোবিন্দ কংশবনিক বলেন চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্য নবদ্বীপ শহরে নাম বিশ্ব বাসীর কাছে আগে থেকেই সমাদৃত ছিলো,আর এই শহর থেকে একাধিক সাধু-সন্তকে অযোধ্যার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোয় শহর বাসী হিসেবে গর্ব অনুভব করছি।

বিশ্বহিন্দু পরিষদের কার্যকর্তা পল্লব সেন বলেন অতীতে এই অযোধ্যায় নবদ্বীপের গঙ্গার মাটি, জল গিয়েছিল, এবার এই চৈতন্য ভূমী নবদ্বীপ থেকেও ঐতিহাসিক মূহুর্তের সাক্ষী থাকতে একাধিক সাধু-সন্ত স্ব শরীরে উপস্থিত থাকবেন নবদ্বীপ বাসী হিসেবে যেমন একাধারে গর্ব অনুভব করছি, ধন্যবাদ জানাই আয়োজকদের। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন ঐ দিন অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি নবদ্বীপ শহর ও ব্লক জুড়েও হবে প্রভু শ্রী রামচন্দ্রের পুজো। সব মিলিয়ে ২২ শে জানুয়ারির অনুষ্ঠান নিয়ে যেমন একাধারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত সেজে উঠেছে, সেখানে নদীয়ার নবদ্বীপ শহরও যে পিছিয়ে নেই তা বলাই বাহুল্য।

Gopal Biswas, Nadia – All eyes across the country are on the Ram temple in Ayodhya on January 22 ahead of the Lok Sabha elections. Around which all the towns and villages of the country are dressed in a kind of dress. And Navadwip Dham of Nadia, one of the oldest towns in West Bengal, is recognized all over the world as the birthplace of Sri Chaitanya Mahaprabhu. Even though Chaitanya city is Nabadwip, in this city, just as the worship of all gods and goddesses according to Vaishnavism is celebrated in Mahasamaroh with respect and devotion, similarly the worship of the gods and goddesses of Shaivya and Shakta beliefs is also done in Mahasamaroh. And in addition to all this, there is a Ram Sita temple near the terracotta area in the middle of this Nabadwip city. As a result, this area was named Ram Sita Para. Currently, this temple has been recognized as a heritage temple in 2020 by the state government’s heritage commission. Pradeep Mahapatra, the current servant of the temple said, like this city, this temple is also very old and steeped in history, he said that they have been engaged in the service of this temple for several generations, the age of the temple is approximately three hundred years. He said that he heard from their forefathers that at that time the Ganga used to flow through this place, and at that time a saint had a dream and accordingly got this wooden idol from the Ganga. . At that time the idol was later beautified with cosmetics, and made into a temple version. He also said that at present, all the expenses of the temple from the daily worship of the deities are covered by the donations given by the devotees. Prabhu Ramachandra, Mata Sita, Lord Lakshan and Hanumanji are worshiped in this temple three times a day, with panchavanjana in the afternoon.

Apart from this, Ram Navami, Sita Navami Janmashtami Tithis are celebrated in Mahasamaroh, where devotees gather a lot. He also said that the number of devotees in the temple is increasing day by day around Ramlala’s death ceremony in Ayodhya on January 22. And a total of five saints and saints from the city and rural parts of Navadwip Dham have been invited to the Ayodhya ceremony on 22nd January. It is known that Sratisekhara Goswami, Bhagwat Kishore Goswami, Nityayukta Nanda Avadhuta, Partha Goswami, and Jagadhatriya Prabhu from Rural Khand Mayapur were invited from Nabadwip city. Regarding the invitation, Sratishekhar Goswami said that Ramlala’s death is going to take place in Ayodhya on January 22, ending the wait of almost five hundred years. And on this grand occasion Ram Janmabhoomi Tirtha Yatra Trust has invited a total of 81 Saints from Madhya Bengal. And like Navadwip Dham, the birth place of Chaitanya Mahaprabhu and the memorial Vaishnava Tirtha, there are many ancient Ram temples in the Ram-Sita neighborhood of the city, and we are proud and happy to be invited to this 22nd January event from this town. The whole country as well as the world is witnessing a historical moment, and he also appealed to the city dwellers to light lamps in their homes and temples on January 22, as well as to visit the traditional ancient Ram temple of the city to offer puja. Regarding the invitation, Nityayukta Nanda Avadhuta said, receiving an invitation to this event is indescribable, as if the meeting is tantamount to a vision of God, an emotion that cannot be expressed in any language. Govinda Kangshavanik, a resident of Ranirchhara, said that the name of Caitanya Mahaprabhu was already appreciated by the people of Navadwip, and that many saints doing from this city were invited to the Ayodhya ceremony.

Vishwa Hindu Parishad Executive Officer Pallab Sen said that in the past, the soil and water of Ganges of Nabadwip went to this Ayodhya, this time many saints and saints will be present in their bodies to witness the historical moment from this Chaitanya Bhumi Nabadwip. He also said that on that day there will be puja of Lord Sri Ramachandra in Navadwip city and block as well as other places. All in all, as different parts of the country are all set up for the 22nd January event, it is needless to say that Navadwip city of Nadia is not far behind.

About The Author


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights