– বিশিষ্ট শিল্পী ভাবতোষ সুতারের ভাবনায় নির্মিত ‘আ পন্ডফুল’ থিমকে কেন্দ্র করে ইউবা সংঘের ৬৮তম দুর্গাপুজোয় এই বিশেষ অভিজ্ঞতার আয়োজন করা হয়েছে।
– ৩৫ ফুট প্রশস্ত এই বিশেষ স্থাপত্যে লিবেররের ফ্রেশব্রিজ এবং ‘হট টু কুল’ প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। এই সুড়ঙ্গ দিয়েই দর্শকরা প্রবেশ করবেন বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী পুকুরের শৈল্পিক উপস্থাপনা ‘আ পন্ডফুল’-এ।
– রেফ্রিজারেটরের ভিতরের অংশের আদলে তৈরি এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে লিবেররের শীতলীকরণ প্রযুক্তিকে এক অভিনব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
– ফ্রেশব্রিজ প্রযুক্তির ভাবনা থেকে তৈরি কৃত্রিম কুয়াশা এবং ‘হট টু কুল’ প্রযুক্তির দৃশ্যভিত্তিক প্রদর্শন দর্শকদের বিশেষ অভিজ্ঞতা দেবে।
– প্রায় ৬,০০০ বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই পুজোমণ্ডপটি এ বছরের প্রায় ৮০টি উল্লেখযোগ্য মণ্ডপের মধ্যে কলকাতার সেরা ১০টি মণ্ডপের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
oplus_8388642
কলকাতা, অক্টোবর ২০২৬: লিবেরর অ্যাপ্লায়ান্সেস ইন্ডিয়া যুব সংঘের ৬৮তম দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শীতলীকরণ প্রযুক্তির এক অভিনব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। এই উদ্যোগের অন্যতম আকর্ষণ হল ৩৫ ফুট প্রশস্ত একটি প্রবেশপথ, যা লিবেরর রেফ্রিজারেটরের ভিতরের অংশের আদলে তৈরি। প্রযুক্তির সঙ্গে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতা ও আকর্ষণীয় প্রদর্শনীর সমন্বয়ে তৈরি এই সুড়ঙ্গ দর্শকদের ব্র্যান্ডের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করায়। এরপর তাঁরা প্রবেশ করেন বিশিষ্ট শিল্পী ভাবতোষ সুতারের পরিকল্পনায় তৈরি প্রায় ৬,০০০ বর্গফুটের মনোমুগ্ধকর শিল্পস্থাপনা ‘আ পন্ডফুল’-এ।
## উদ্ভাবনী প্রযুক্তির জীবন্ত অভিজ্ঞতা
প্রচলিত পণ্য প্রদর্শনীর বাইরে গিয়ে রেফ্রিজারেটরের আদলে তৈরি এই সুড়ঙ্গ লিবেররের প্রযুক্তিকে দর্শকদের সামনে এক বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরে। সুড়ঙ্গের একাংশে হালকা কৃত্রিম কুয়াশার মাধ্যমে ফ্রেশব্রিজ প্রযুক্তির ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হল ফলমূল ও পাতাযুক্ত শাকসবজির সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করা।
এরপর রয়েছে ‘হট টু কুল’ প্রযুক্তির দৃশ্যভিত্তিক প্রদর্শন। নিরাপদ নাট্যপ্রদর্শনের কৃত্রিম কুয়াশা ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে, কীভাবে গরম দুধ সরাসরি রেফ্রিজারেটরে রাখা যায়। এই দুই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দৈনন্দিন গৃহস্থালির পরিচিত বিষয়গুলিকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে উন্নত শীতলীকরণ প্রযুক্তি কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়।
*শ্রী অমিত সরকার বলেন,* “দুর্গাপুজো কলকাতার অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে শিল্প, সৃজনশীলতা এবং মানুষের মিলন এক অসাধারণ পরিবেশ তৈরি করে। যুব সংঘের সঙ্গে আমাদের এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত ব্র্যান্ড প্রদর্শনীর বাইরে গিয়ে দর্শকদের জন্য এমন একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করা, যার সঙ্গে তাঁরা সরাসরি যুক্ত হতে পারবেন। রেফ্রিজারেটরের আদলে তৈরি এই বিশেষ সুড়ঙ্গের মাধ্যমে ফ্রেশব্রিজ এবং ‘হট টু কুল’ প্রযুক্তির আকর্ষণীয় প্রদর্শনীর সাহায্যে আমরা লিবেররের উদ্ভাবনগুলিকে জীবন্ত করে তুলেছি। এই উৎসবের আবহে প্রযুক্তি ও সৃজনশীল উপস্থাপনা একসঙ্গে মিলে দর্শকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করছে দেখে আমরা আনন্দিত।”
## শিল্প ও উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে সংরক্ষণের বার্তা
সুড়ঙ্গ পেরিয়ে দর্শকরা পৌঁছান ‘আ পন্ডফুল’ শিল্পস্থাপনায়। এই ভাবনার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলিকে পরিবেশ, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাসমান পুকুরের আদলে তৈরি এই স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিল্পকর্ম, দৃশ্যপ্রক্ষেপণ, শব্দ এবং সরাসরি পরিবেশনা। এর মাধ্যমে ভাবতোষ সুতার বাংলার ঐতিহ্যবাহী জলাশয়গুলির ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং বাংলার মানুষের স্মৃতি ও সংস্কৃতিতে সেগুলির স্থায়ী গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
প্রায় ৬,০০০ বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই শিল্পস্থাপনা মানুষ, প্রকৃতি এবং যৌথ সাংস্কৃতিক পরিসরের সম্পর্ককে এক আবেগঘন উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরে। এর স্বতন্ত্র শৈল্পিক পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার জন্য এটি এ বছরের প্রায় ৮০টি উল্লেখযোগ্য পুজোমণ্ডপের মধ্যে কলকাতার সেরা ১০টি মণ্ডপের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
এই উদ্যোগে যত্ন ও সংরক্ষণের দুটি পৃথক ভাবনা একসূত্রে যুক্ত হয়েছে। একদিকে লিবেররের সতেজতা ও খাদ্য সংরক্ষণের প্রযুক্তি, অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং তার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবনকে রক্ষা করার বার্তা। সতেজতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের মতো মূল্যবান বিষয়গুলিকে সংরক্ষণ করা—এই সহযোগিতা প্রযুক্তি ও শিল্পভাবনাকে একত্রিত করে দর্শকদের সামনে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে।
*শ্রীমতী সৌমিতা চৌধুরী বলেন,* “দুর্গাপুজো বাংলার শিল্প-ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদ্যাপন। আমাদের ‘আ পন্ডফুল’ ভাবনার মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলির সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এই জলাশয়গুলি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে। লিবেরর অ্যাপ্লায়ান্সেসের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সতেজতা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ আমাদের এই বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে যত্নের সঙ্গে রক্ষা করার বার্তা রয়েছে। এই উদ্যোগ প্রযুক্তি ও শিল্পভাবনাকে একসূত্রে যুক্ত করে দর্শকদের জন্য এক আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। পাশাপাশি, প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব সম্পর্কেও মানুষকে ভাবতে উৎসাহিত করবে।”
*লিবেরর অ্যাপ্লায়ান্সেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের বিক্রয় বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী কপিল আগরওয়াল বলেন,* “লিবেররে আমরা বিশ্বাস করি, উদ্ভাবন তখনই প্রকৃত অর্থে সার্থক হয়ে ওঠে, যখন মানুষ সরাসরি তার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। যুব সংঘের সঙ্গে আমাদের এই সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা শীতলীকরণ প্রযুক্তিগুলিকে আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি।” দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা শিল্প, কারুশিল্প ও সামাজিক সম্প্রীতির এক প্রাণবন্ত মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে লিবেরর অ্যাপ্লায়ান্সেস তার শীতলীকরণ প্রযুক্তিকে উৎসবের আবহে মানুষের আরও কাছে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এই বিশেষ অভিজ্ঞতা বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও উদ্যাপন করেছে।
## লিবেরর সম্পর্কে
লিবেরর অ্যাপ্লায়ান্সেস ইন্ডিয়া আন্তর্জাতিক লিবেরর গোষ্ঠীর অংশ। এই বহুমুখী প্রযুক্তি সংস্থা বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে ১৩টি পণ্য বিভাগে কাজ করে। রেফ্রিজারেশন ও ফ্রিজিং এই গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান পণ্য বিভাগ। ভারতে লিবেরর অ্যাপ্লায়ান্সেস উন্নত মানের রেফ্রিজারেটরের বাজারে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। সংস্থার ডাইরেক্ট কুল এবং টপ মাউন্ট বিভাগে ৯৫টিরও বেশি পণ্য রয়েছে, যা ২০টিরও বেশি রং, নকশা ও বাহ্যিক সজ্জায় পাওয়া যায়। জার্মান প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে ভারতীয় পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে হ্যান্ডসফ্রি ওপেনিং, ‘হট টু কুল’, ফ্রেশব্রিজ এবং ডুওকুলিং প্রযুক্তি।