গোপাল বিশ্বাস -নদীয়া- শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভূমি নবদ্বীপ—যেখানে প্রতিটি অলিগলিতে ভেসে আসে কীর্তন ও নামসংকীর্তনের সুর। কিন্তু এই নবদ্বীপেই আজ মানুষের কানে ধরা দিচ্ছে এক অন্যরকম সুর—বাঁশির সুর। সেই সুরের শিল্পী ‘কৃষ্ণ’। তবে তিনি পৌরাণিক নন, বাস্তবের মানুষ—নবদ্বীপের কুটিরপাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণ সাহা। পেশায় কাঠের মিস্ত্রি কৃষ্ণ সাহার জীবন এক সময় ছিল সাধারণই। কিন্তু প্রেমের এক গভীর অধ্যায় তার জীবনকে বদলে দেয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে যাকে ভালোবেসেছিলেন, সেই সম্পর্ক পরিণতি পায়নি। প্রিয় মানুষটি অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ভেঙে পড়েন কৃষ্ণ। সেই মানসিক যন্ত্রণা, নিঃসঙ্গতা থেকেই যেন জন্ম নেয় তার বাঁশির সঙ্গে সম্পর্ক। গত প্রায় দু’বছর ধরে বাঁশিই হয়ে উঠেছে কৃষ্ণের একমাত্র সঙ্গী। আশ্চর্যের বিষয়, কোনো প্রথাগত তালিম ছাড়াই তিনি নিপুণভাবে বাঁশি বাজাতে পারেন। তার সংগ্রহে রয়েছে মোট চারটি বাঁশি—দুটি আর বাঁশি, একটি রাখাল বাঁশি এবং একটি মুরলী। প্রতিটি বাঁশিতে যেন লুকিয়ে আছে তার না-বলা কথা, না-পাওয়ার বেদনা। প্রায়ই গঙ্গার পাড়ে কিংবা যোগনাথতলার নিতাই মন্দির চত্বরে বসে যখন তিনি বাঁশি বাজান, তখন থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। ভক্তদের অনেকেই বলেন, তার বাঁশির সুরে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, এক ধরনের আধ্যাত্মিক টান। কেউ কেউ চোখ বন্ধ করে সেই সুরে ডুবে যান। ভাঙা প্রেমকে শক্তিতে পরিণত করে সুরের আশ্রয়ে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়া এই মানুষটিকেই আজ নবদ্বীপবাসী আদর করে ডাকছেন—‘নবদ্বীপের কৃষ্ণ’।
