web analytics
eebe5bd2-500c-45e7-99f0-f394c56b5b9a

পারিজাত মোল্লা , পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে সামন্ত বাড়ির পুজো ভিন্ন মাত্রা এনেছে গোটা এলাকাজুড়ে।১৭৯ বছরে পদার্পণ করলো এবারের পুজো। জানা গেছে, ১৭৯ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে একটি দিঘির জলের তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল পাথরের কালীমূর্তি। আর ওইবছর দেবীমূর্তির সাথেই উদ্ধার হয়েছিল একটি সশীষ ডাব। দেবীর স্বপ্নাদেশে প্রথম বছরেই পুজোর শেষে পাথরের কালীমূর্তিটি ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল ভাগীরথীর জলে। কিন্তু রয়ে যায় ডাবটি। পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের অনন্তপুর গ্রামের সামন্ত পরিবারের কালীমন্দিরে এখনও দেবীমূর্তির সাথেই ১৭৯ বছর আগে উদ্ধার হওয়া ডাবটি রেখে পুজো করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস দৈব নির্দেশে প্রাপ্ত ওই ডাব আজও ‘জীবন্ত ।’ সেটি দর্শনে দেবীর আশীর্বাদ মেলে। দেবীমূর্তির সামনেই সেই ডাবটি রেখেই সামন্ত পরিবারের পুজো হয়। কেতুগ্রামের ঝামটপুর এবং অনন্তপুর পাশাপাশি গ্রাম। অনন্তপুর গ্রামের সামন্ত পরিবার এলাকায় সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসাবে পরিচিত। এই পরিবারের সদস্য বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত। যিনি বর্তমানে ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট আপিলেট ট্রাইবুনাল এর চেয়ারপার্সন পদে রয়েছেন। এর আগে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। পরিবারের অন্যান্যরাও উচ্চ প্রতিষ্ঠিত। কর্মজীবনের সুবাদে বাইরে থাকেন। কিন্তু কালীপুজোর সময় পরিবারের সকলকেই গ্রামের বাড়িতে চলে আসতে হয়। রবীন্দ্রনাথবাবু জানান ” আমাদের পুজোয় বলিদান নেই। প্রতিমা নিরঞ্জনের পরের দিনেই সেই কাঠামো তুলে নিয়ে আসা হয় মন্দিরে। ওই কাঠামো বেদিকে রেখেই সারাবছর নিত্যসেবা হয়। আবার পরের বছর ওই কাঠামোতেই দেবীর প্রতিমা নির্মাণ করতে হয়। আর সেই ডাবটিকে কাঁচ লাগানো বাস্কে ডাবটিকে সযত্নে সংরক্ষিত করা আছে। মূর্তির সাথেই সেটি পুজো করা হয়।” তবে পারিবারিক পুজো হলেও অনন্তপুরের সামন্ত পরিবারের কালীপুজো কার্যত সর্বজনীন পুজোর চেহারা নিয়েছে। শুধুমাত্র পাশাপাশি গ্রাম থেকেই নয়, দূরদুরান্তের গ্রাম থেকেও দেবীর পুজো দিতে আসেন পুন্যার্থীরা। এই কালীপুজোর সময় সামন্ত পরিবার ভোজের আয়োজন করেন। আপামর গ্রামবাসী অংশগ্রহণ করেন। সামন্তপরিবারের আমন্ত্রণে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা থেকে জেলা আদালতের বিচারকদের অনেকেই এই পুজোয় সামিল হতে আসেন বলে জানা গেছে ।

SHILPANEER NEWSPAPER
Verified by MonsterInsights