বিগত ২২শে মার্চ কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হল জাতীয় স্তরে খ্যাতি সম্পন্ন ভারতনাট্যম নৃত্যশিল্পী যাজ্ঞসেনী চ্যাটার্জীর একক নৃত্যানুষ্ঠানে ; ২০০৬ সালের পর ২0 বছর পরে নিজের শহর কলকাতায় অনুষ্ঠান করলেন তিনি। প্রখ্যাত অভিনেত্রী সোমা দে-র কন্যা যাজ্ঞসেনীর এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ডক্টর থাঙ্কুমণি কুট্টির নৃত্যপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র কলা মণ্ডলমে। দুই পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানে একদিকে যেমন ছিল যাজ্ঞসেনীর মনোমুগ্ধকর ভারতনাট্যম পরিবেশনা, অন্যদিকে ছিল নৃত্য, অভিনয় এবং শিল্পীসত্তার নানা দিক নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভা। এই আলোচনায় অংশ নেন অভিনেত্রী সোমা দে ও যাজ্ঞসেনী নিজে, এবং সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সোমনাথ কুট্টি। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় ভারতনাট্যম বিষয়ক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেছেন যাজ্ঞসেনী। নৃত্যের মধ্যে দিয়ে শিশু মনের বিকাশ বিষয়ে বিশেষ ভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি । যাজ্ঞসেনী দীর্ঘদিন ধরে খ্যাতনামা ভারতনাট্যম গুরু ডক্টর লক্ষ্মী রামস্বামীর কাছে গুরুশিষ্যা পরম্পরায় নৃত্যশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। দক্ষিণ ভারতে নিজের শিল্পচর্চার মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যেই ভারতনাট্যম জগতে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
নিজের প্রথম কলকাতা পরিবেশনা প্রসঙ্গে যাজ্ঞসেনী বলেন, ছোটবেলা থেকেই মা সোমা দে-র প্রভাবে নৃত্যের সঙ্গে অভিনয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, আঁকার মধ্যে বড় হয়ে ওঠা সত্ত্বেও নৃত্যই হয়ে ওঠে তাঁর মূল সাধনা। গুরু ডক্টর লক্ষ্মী রামস্বামীর অবদান তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং জানান, দক্ষিণ ভারতে শিল্পচর্চার সময় বহু সম্মান ও মঞ্চ পাওয়ার সুযোগ হলেও নিজের শহরে এই প্রথম পরিবেশনা তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগঘন। এই অনুষ্ঠানে সময়ের স্রোত ধরে বিভিন্ন যুগের কবিতায় নারীর উপস্থিতি, আবেগ ও অনুভূতিকে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি। প্রাচীন কাব্য থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর কবিতায় মননের বিবর্তনকে নৃত্যের ভাষায় প্রকাশ করার এক অনন্য প্রচেষ্টা ছিল এই উপস্থাপনায়। অবিব্যক্তির প্রকৃত প্রকাশে যে ভাষা কোনও বাধা সৃষ্টি করতে পারে না, নৃত্যের প্রকাশে ভাষা ও ভাবনার ঊর্ধ্বে উঠে অনুভূতিই হয়ে ওঠে প্রধান, এই ভাবনাই ফুটে উঠেছে পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে । খুব শীঘ্রই কলকাতায় আরও নতুন নতুন প্রযোজনা নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে যাজ্ঞসেনী চ্যাটার্জীর।












