web analytics

পড়ুয়াদের প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কর্মজগতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী স্কটিশ চার্চ কলেজ। মঙ্গলবার কলেজের সেমিনার হলে আয়োজিত হল বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ফ্রম অ্যাকাডেমিয়া টু ইন্ডাস্ট্রি, অ্যান অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি ইন্টারফেস’। কলেজের আইকিউএসি এবং আইআইসি-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা, শিল্পক্ষেত্র, গবেষণা, উদ্ভাবন, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পড়ুয়াদের শুধুমাত্র পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পক্ষেত্রের বর্তমান চাহিদা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দুই বিধায়ক বিজয় ওঝা ও অমিত সামন্ত। উপস্থিত ছিলেন বিশপের প্রতিনিধি রেভারেন্ড আবির অধিকারী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসসি কো-অর্ডিনেটর পীযূষ কান্তি পানিগ্রাহী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানের সুযোগ, ইন্টার্নশিপ, গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে অতিথিদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি পড়ুয়াদেরও মতবিনিময় হয়। শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে কর্মজগতে প্রবেশের আগে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন এবং বর্তমানে শিল্পক্ষেত্রে কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, সে সম্পর্কেও ধারণা পান পড়ুয়ারা।
অনুষ্ঠানে নাইটিঙ্গেল হসপিটাল এবং ডাকব্যাক-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি মউ স্বাক্ষরিত হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের আশা, এই ধরনের শিল্প-শিক্ষা সংযোগ আগামী দিনে পড়ুয়াদের ইন্টার্নশিপ, কর্মসংস্থান, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কলেজের অ্যাসেম্বলি হলে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। সেখানে কলেজের – পশ্চিমবঙ্গ সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট,রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এন্টারপ্রেনেউর (স্বনির্ভর) সেল, ইনস্টিটিউশন ইনোভেশন কাউন্সিল, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস, রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেল, ইন্টার্নশিপ, কাউন্সেলিং সেল, মেডিক্যাল ইউনিট, সোশ্যাল ওয়ার্ক এবং এনএসএস-এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে দুই বিধায়কই শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা ছাড়া শিল্পের উন্নতি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত হলে রাজ্যের পড়ুয়াদের দক্ষতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এ রাজ্যের প্রতিভা বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতাও অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।

 

স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষ মধুমঞ্জরী মন্ডল বলেন, বর্তমান সময়ে পড়ুয়াদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ আগামী দিনে পড়ুয়াদের কর্মসংস্থান এবং পেশাগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

SHILPANEER NEWSPAPER

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights