কলকাতা: বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (সিনি) তাদের মাসিক ‘শুভায়ু হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস ডায়ালগ’ শীর্ষক উদ্যোগের সূচনা করেছে। পাশাপাশি জরুরি জনস্বাস্থ্য বিষয়গুলি সামনে আনতে একটি শক্তিশালী পথনাট্যেরও আয়োজন করা হয়। ‘শুভায়ু ডায়ালগ’ সিরিজটি একটি ধারাবাহিক জ্ঞান-বিনিময়ের মঞ্চ হিসেবে পরিকল্পিত, যার উদ্দেশ্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বিশেষজ্ঞদের আলোচনার মাধ্যমে সিনি-র কর্মীদের দক্ষতা আরও শক্তিশালী করা। উদ্বোধনী পর্ব ‘অসংক্রামক রোগ: নীরব মহামারি’ শীর্ষকে আয়োজিত হয়, যেখানে ভারতে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও নিয়মিত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সংলাপের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করতে সিনি সাউথ সিটি কলেজের সামনে ‘ঘুম ভাঙানো গান’ নামে একটি আকর্ষণীয় পথনাট্যের আয়োজন করে, যেখানে ডুবে যাওয়াকে একটি নীরব কিন্তু গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই পরিবেশনার মাধ্যমে সিপিআর সম্পর্কে সচেতনতা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়। সম্প্রতি বাঙালি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ডুবে যাওয়ার ঘটনার উল্লেখ করা হয়, যা স্পষ্ট করে দেয় যে তাৎক্ষণিক সিপিআর প্রয়োগ জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। পাশাপাশি একটি সরাসরি সিপিআর প্রদর্শনী দর্শকদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করে এবং জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
মূল বক্তব্য প্রদান করতে গিয়ে ডাঃ অরুণাংশু তালুকদার, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগ, মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা বলেন, “শুভায়ুর মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো সচেতন সমাজ গড়ে তোলা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য চর্চাকে উৎসাহিত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে, বার্ধক্যজনিত চিকিৎসা দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” এই ভাবনার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে ডাঃ সমীর চৌধুরী বলেন, “শুভায়ু এমন একটি উদ্যোগ, যা সম্প্রদায় এবং আমাদের প্রান্তিক স্তরের কর্মীদের জ্ঞান দিয়ে সক্ষম করে তুলবে, যাতে তারা পরিবর্তিত স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ গুলির মোকাবিলা কার্যকরভাবে করতে পারে।” রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের সহযোগিতায় সিনি সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করে চলেছে, এই বার্তাই পুনরায় উচ্চারিত হয়েছে—সময়মতো পদক্ষেপই বাঁচাতে পারে অমূল্য প্রাণ।”
