web analytics

Joy Choudhuri Reporter: এবার কলকাতা পুজোগুলির মধ্যে ১০০ বছর পূর্ণ করছে দুটি পুজো। টালিগঞ্জের চারু এভিনিউ এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার গোলপার্ক-এর আদি বালিগঞ্জের এবার শততম বর্ষ। রথযাত্রা পূর্ণ লগ্নে প্রকাশ্যে এসেছিল গোলপার্কের এই পুজটির থিম। শিল্পী বিশ্বরঞ্জন রাজ যার নাম দিয়েছেন ভিত। আদি বালিগঞ্জের এই পুজোয় তিনি দেখাতে চাইছেন আদিম যুগে গুহা বাসী মানুষের শিল্প কর্ম থেকে আধুনিক পৃথিবীর সুসজ্জিত আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকার বিবর্তন।
একটি গর্ভবতী বীজ থেকে সৃষ্টি হয় মহীরুহ। কিন্তু তার যাবতীয় সঞ্চিত থাকে শিকড়ে। ওটাই তো মহীরুহের ভিত। এভাবেই শিকড়ের সন্ধানে গোলপার্কের আদি বালিগঞ্জ। ঐতিহ্যের সঙ্গে মানবিকতা ও সহমর্মিতার মধ্যে জীবনের বহমান স্রোতকে এখানে তুলে ধরবেন শিল্পী বিশ্বরঞ্জন রাজ। আবহে রয়েছেন শিল্পী নিজেই। ভাষ্যে মোনালিসা লাহিড়ি। প্রতিমা শিল্পী নব পাল। আদি বালিগঞ্জের প্রতিমা সনাতনী এবং একচলার। এটাই এই পুজোর ঐতিহ্য। যা বহন করে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এবারের প্রতিমার উচ্চতা 21 ফিট। দক্ষিণ কলকাতার সবচেয়ে বড় মা দুর্গা। দক্ষিণ কলকাতায় এটি সবচেয়ে পুরনো পুজো গুলির মধ্যে দ্বিতীয়। প্রথমটি অবশ্যই বলরাম বসু ঘাট স্ট্রিট। এরপর কলকাতায় পটলডাঙ্গা, বাগবাজার ১০০ বছর অতিক্রম করেছে। আসলে রবীন্দ্র সরোবর তো কৃত্রিম লেক। ১৯২০ এটি খনন করেছিলেন বোম পাস সাহেব। এই লেখটি খনন করতে গিয়ে প্রচুর বালি উঠেছিল। যেগুলো রাখা ছিল গোলপার্ক গড়িয়াহাট, বর্তমান বালিগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে। সেখান থেকেই সাহেবরা বলতে নেই অঞ্চলটিকে বালিগঞ্জো। সেখান থেকেই বালিগঞ্জ নামের সৃষ্টি হয়। যেহেতু রবীন্দ্র সরোবর গোলপার্ক অঞ্চল থেকে খনন শুরু হয়েছিল এই অঞ্চলেই প্রথম বসতি গড়ে ওঠে। গোলপার্ক গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ স্টেশন অঞ্চলটি বৃহত্তর ভাবে কাকুলিয়া হিসেবে পরিচিত ছিল একটা সময়। এরপর বালিগঞ্জ ব্যাংক এলাকাটির ডেভলপ করে। এরপরে সৃষ্টি হয় বালিগঞ্জ গার্ডেন্স বালিগঞ্জ টেরাস, বালিগঞ্জ প্লেস কিম্বা বালিগঞ্জ স্টেশন রোড ( রেললাইন সন্নিহিত অঞ্চল )। যে কোন জনবসতি গড়ে ওঠে দুদিক থেকে। গোলপার্কের দিক থেকে জনবসতি গড়ে উঠেছিল ১৯২০ চালের পর থেকেই। কারণ এযখানে তখন ছিল বালির হাট। আবার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড অঞ্চলটি ছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দখলে । ওই জায়গাটির নাম ছিল বালিগঞ্জ ময়দান। ওখানে এখনো সেনা ছাউনি রয়েছে। এটে সিসিএফসি অঞ্চল সন্নিহিত। এই অঞ্চল থেকেও গড়ে ওঠে বসতি। ওই অঞ্চলে ও রয়েছে বালিগঞ্জ ফার্স্ট ল্যান্ড বালিগঞ্জ সেকেন্ড লেন। যেমন নিউটাউনের বসতি টা গড়ে উঠেছে সেক্টর ফাইভ অঞ্চল থেকে। অন্য দিকটা ভিআইপি রোড সংলগ্ন হলদিরাম থেকে। গোলপার্ক এর আদি বালিগঞ্জের এই পুজোটা ভেঙে পড়ে টুকরো টুকরো হয়েছে।। এটি কলকাতা পুরসভার 68 world ( যা সম্প্রতি লুপ্ত হয়েছে, এখন ওয়ার্ড নাম্বার ১৩১ ) এর মধ্যে পড়ত একটা সময়। এই এলাকায় জনবসতি পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আদি বালিগঞ্জ গোলপার্কের পুজো ভাগ হয়েছে। তাই এই অঞ্চলে প্রায় প্রতিটি গলিতেই পুজো। গোলপার্ক গড়িয়াহাট অঞ্চলে ৫০০ ফুটের মধ্যে প্রায় ১১ টি পূজো হয়। কিন্তু এত রক্তক্ষরণের মধ্যেও বালিগঞ্জ গার্ডেনস এর এই পুজো ১০০ বছর পূর্ণ করেছে।
এদিনের আদি বালিগঞ্জের শারদ মাঙ্গলিকের খুঁটি পূজার মূল আকর্ষণ ছিলেন মানস ভট্টাচার্য এবং বিদেশ বসুর। ১৯৭৭ সালে মোহনবাগান থেকে তাদের বন্ধুত্ব আর পথচলা শুরু। এবার তাদের বন্ধুত্বের সুবর্ণ জয়ন্তী আর আদি বালিগঞ্জের শতবর্ষ। তাই এবারের কমেডি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তুলে ধরেছে ময়দানের এই পরিচিত জুটিকে। উপস্থিত ছিলেন ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ দীপেন্দু বিশ্বাস। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে বালিগঞ্জ গার্ডেন্সের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ কম্পটন দত্তের। জাতীয় ফুটবলার উপস্থিত ছিলেন। এসেছিলেন আরেক জাতীয় ফুটবলার দীপঙ্কর রায়।
এদিনের খুঁটি পুজোয় বিশেষ আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ মালা রায়, রাজ্যসভার এমপি ও বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা, অপর বিজেপি নেতা সুখেন্দু শেখর রায় এবং শাসক দলের দুই নতুন মহিলা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ও শর্বরী মুখার্জি।

SHILPANEER NEWSPAPER
One thought on “গোলপার্ক-এর আদি বালিগঞ্জের এবার শততম বর্ষ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights